আম পাতার উপকারিতা

কাঁচা আম, পাকা আম , আমের জুস, আমের চাটনি, আম সত্তর , আমের আচার , এইরকম নানা ভাবে আমরা আম কে খেয়ে তাকি। যেভাবে আমরা আম খাই না কেন আম ফল হিসাবে আমাদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। কাঁচা আম বা পাকা আম আমরা সবাই খুব পচন্দ করি। কিন্তু কখনো কি আমের পাশাপাশি আম পাতার উপকারিতার কথা শুনেছেন…?????
যদি বলা হয় আমের চেয়ে আম পাতার উপকারিতা কোন অংশে কম নয় তখন অবশ্যই অবাকই হবেন……!!!!!
আপনাদের আর অবাক করব না। সরাসরি জানিয়ে দিব

আম পাতার উপকারিতাঃ

আমের মত আমের পাতা ও যে অনেক বেশী কার্যকরী এবং ভেষজ ঔষধ হিসাবে আমাদের অনেক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে সেটা কিন্তু আমাদের জানা নেই। তাই এই বিষয়ে আপনাদের সাথে আজ বিস্তারিত আলোচনা করতে চলছি…… চলুন কথা না বাড়িয়ে সরাসরি জেনে নেওয়া যাক, আম পাতার উপকারিতা গুলো কি কি……
শরীরকে সুন্দর, স্লিম এবং সুগঠিত রাখতে আমপাতার উপকারিতাঃ
শরীরের বাড়তি মেদ কমিয়ে ফেলে শরীরকে সুন্দর,স্লিম এবং সুগঠিত রাখতে আমপাতা কিন্তু দারুণ ভাবে কাজ করে থাকে। আমরা যদি আম পাতা শুকিয়ে গুড়ো করে তা সংরক্ষণ করে রাখতে পারি।
প্রতিদিন রাতের বেলায় পরিমাণমতো পানি দিয়ে আম পাতার গুড়া ভিজতে দিয়ে সকাল বেলা যদি আমরা খেতে পারি, সেটা আমাদের শরীর থেকে বাড়তি মেদ ঝরিয়ে ফেলে শরীরকে সুন্দর রাখে।

শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পাথর বা স্টোন হওয়া হ্রাস করে আমপাতাঃ
আমপাতা আমাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পাথর বা স্টোন হওয়ার যে প্রবণতা তা কিন্তু হ্রাস করে ফেলে। শুকনো আমপাতার গুড়ো কোন কিছুর সাথে খেলে তার মধ্যে থাকা এন্টিঅক্সাইড শরীরের পাথর বা স্টোন ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে যায়।
গলাব্যথা, টনসিল বা থাইরয়েডের সমস্যা সমাধানে আমপাতার ভূমিকাঃ
মৌসুমী সর্দি-কাশি-জ্বর এই ধরনের সমস্যা বা গলাব্যথা, টনসিল, থাইরয়েডের সমস্যা যাদের রয়েছে তারা কিন্তু আমপাতাকে গরম পানির সাথে সিদ্ধ করে পানি খেয়ে নিতে পারেন।
এতে এমন ভেষজ গুণ রয়েছে যা আমাদের গলা ব্যথা সহ ঠান্ডা, সর্দি এই ধরনের সমস্যা থাকলে তা নিমিষেই দূর করে ফেলে।
বাতের ব্যাথা নিরাময়ে আমপাতার উপকারিতাঃ
বাতের ব্যাথা, আর্থ্রাইটিসের ব্যথায় যারা কষ্ট পাচ্ছেন তারা কিন্তু আমপাতাকে প্রতিষেধক হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। কচি আম পাতা আপনারা যদি গরম পানিতে সিদ্ধ করে তারপর সে পানি নিয়ম মেনে খেতে পারেন, তাহলে নিশ্চিত আপনাদের বাতের ব্যথা সেরে যাবে।
ক্ষতস্থান সারাতে আমপাতার কার্যকারিতাঃ
ক্ষতস্থান সারাতে আমপাতা কিন্তু দারুণ কার্যকরী। আমাদের শরীরের কোথাও ছেড়ে গেলে বা ফেটে গেলে বা চামড়া উঠে গেলে অথবা রক্ত বন্ধ না হলে তাহলে আমাদের উচিত কাচি আম পাতা সংগ্রহ করে নেওয়া। সে আমপাতা ঘসে যদি আমরা ক্ষতস্থানের উপরে লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিতে পারি, তাহলে আমাদের ক্ষত তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।
শ্বাসকষ্টের সমস্যা সমাধানে আমপাতার উপকারিতাঃ
শ্বাসকষ্টের সমস্যায় যারা রয়েছেন এবং শীতকালে শ্বাসকষ্টের সমস্যা যাদের আরো বেশি বেড়ে যায়, তারা কিন্তু কচি আম পাতার রসের সাথে তুলসীপাতার রস মিশ্রিত করে তার সাথে সামান্য পরিমাণ মধু যোগ করে খেয়ে নিতে পারেন। নিশ্চিত করে বলা যায় আপনাদের শ্বাসকষ্ট সমস্যার উপযুক্ত সমাধান হয়ে যাবে।
তাহলে বন্ধুরা আপনারা জানতে পারলেন আমের পাশাপাশি কাঁচা আম পাতার কি পরিমান গুনাগুন রয়েছে। আমরা আশা করব কাঁচা আম পাতা ফেলনা হিসাবে না ভেবে এর যথাযথ গুনাগুন গুলো উপভোগ করার জন্য এর কার্যকরী ব্যবহার আপনারা নিশ্চিত করবেন।

Leave a Comment