কালোজিরার উপকারিতা

প্রাচীনকাল থেকে কালোজিরা বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।দিন দিন এর ব্যবহার এর বিস্তৃতি বেড়ে চলছে। অর্থাৎ বলতে গেলে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়া হাজার গুণে গুণান্বিত একটি মাধ্যম হলো এই কালোজিরা।
সুপ্রিয় বন্ধুরা, আজ আমি আলোচনা করব আপনাদের সাথে কালোজিরার উপকারিতা নিয়ে।
চলুন দেখে নেওয়া যাক এই কালোজিরার ব্যবহার এবং ক্ষেত্রগুলো………

যৌন দুর্বলতা নিরসন করতে কালো জিরার ব্যবহারঃ

যৌন শক্তির অভাবে দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগেই থাকে। আর এই ধরনের গোপন সমস্যার সমাধান কিন্তু প্রায় সময় করা হয়ে উঠে না। ডাক্তারের কাছে যেতে লজ্জা পাওয়ার কারণে অনেকেই এই সমস্যার সমাধান না করে থেকে যায়।
কিন্তু আপনারা জানলে অবাক হয়ে যাবেন, কালোজিরার মাধ্যমে এই গোপন সমস্যার সহজ সমাধান করা যায়। প্রতিদিন কালোজিরার গুড়োর সাথে সামান্য পরিমাণ মধু মিক্স করে আপনারা যদি নিয়ম মেনে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন, তাহলে আপনাদের যৌন দুর্বলতার যে সমস্যা তা কিন্তু খুব সহজে নিরাময় হয়ে যাবে এবং আপনাদের দাম্পত্য জীবন অনেক সুখের হবে।

চুলের যত্নে কালিজিরার উপকারিতাঃ

চুলের যত্নে কালিজিরা কিন্তু অনেক বেশি উপকারী। যাদের খুশকির সমস্যা থাকে, অথবা চুল ঝরে পড়ে, অথবা চুলের গোড়া নরম হয়ে যায় এবং চুল বৃদ্ধি পায় না,তাদের সব ধরনের সমস্যার দ্রুত সমাধান করা যাবে কালিজিরা ব্যবহারের মাধ্যমে।
কালোজিরা তেলের সাথে সামান্য পরিমাণে আমলকির রস মিশ্রিত করবেন এবং তা যদি সপ্তাহে ২-৩ বার দিতে পারেন, তাহলে আপনাদের চুলের সব ধরনের সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন।

শরীরে ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে কালোজিরার ভূমিকাঃ

অলিভ অয়েল এবং কালিজিরার তেল একসাথে মিক্স করে সংরক্ষন করে রেখে দিতে পারেন এবং প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে পুরো শরীরে এইটা যদি আপনারা মালিশ করতে পারেন, তাহলে শরীরের চামড়ার বিভিন্ন স্থানে ফাটা দাগ এবং শরীরেরশুষ্ক ভাব দূর হয়ে যাবে।

বাতের ব্যথা দূর করতে কালিজিরার উপকারিতাঃ

বাতের ব্যথা দূর করতে কালিজিরার তেল কিন্তু অনন্য একটি ঔষধ।তাই বাতের ব্যথা যাদের রয়েছে তারা নিয়মিত কালিজিরার তেল ব্যবহার করতে পারেন।

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে কালোজিরার কার্যকারিতাঃ

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে কালিজিরা আরো বেশি কার্যকরী। যাদের স্মৃতিশক্তি কমে যাচ্ছে এমনটা মনে হয়, অথবা যারা স্মৃতিশক্তি আরো প্রকট ভাবে ধরে রাখতে চান, প্রতিদিন নিয়ম মেনে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল খেয়ে নিতে পারেন। এটি মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে পারলে আরো বেশি কার্যকরী হয়। এটি আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অনেক বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

মৌসুমি সমস্যা সমাধানে কালোজিরার ভূমিকাঃ

যাদের ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে সর্দি কাশি ও জ্বর হওয়ার প্রবণতা থাকে, তারা কিন্তু তাদের খাদ্য তালিকায় যে কোন খাবারের সাথে কয়েক গুণ টানা কালিজিরা খেয়ে নিতে পারেন।
কালোজিরা খাওয়া যেহেতু স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, তাই আজ থেকে আমরা যে কোন খাবারের সাথে কালোজিরা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলব।
আর এটি অনেক বেশি সুগন্ধযুক্ত, তাই খেতে খারাপ লাগেনা। তাই আমাদের উচিত আমাদের সব খাদ্যের মধ্যে কালিজিরা কে অন্তর্ভুক্ত করে রাখা।

গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতাঃ

নবজাতকদের মায়ের অনেক বেশি পরিমাণে কালোজিরা খাওয়া উচিত। কারণ এতে গর্ভকালীন সময়ে মায়ের শরীরের যদি কোন অংশে আঘাত বা ক্ষতি হয়ে থাকে তা কালিজিরা খাওয়ার মধ্য দিয়ে দূর হয়ে যায়।
এছাড়াও নবজাতকের প্রাথমিক খাদ্যের উৎস মায়ের বুকের দুধ। এই দুধ খুব বেশি পরিমাণ উৎপাদন করার জন্যেও কালিজিরা কাজ করে থাকে। তাই ছোট ছোট শিশুদের মায়েদের উচিত তাদের খাদ্য তালিকায় কালোজিরা অন্তর্ভুক্ত করা।
তাহলে বন্ধুরা, আপনারা বুঝতে পারলেন কালোজিরা আমাদের জন্য কতটুকু উপকারী। তাই আমরা আশা করব আপনারা আপনাদের খাদ্যতালিকায় কালোজিরা কে অন্তর্ভুক্ত রাখবেন, এবং এর গুনাগুন গুলো বিবেচনা করে এগুলোকে খাবার বা ব্যবহার করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

Leave a Comment