কেন খাবেন শশা? জেনে নিন শশার উপকারিতা

সুপ্রিয় বন্ধুরা, আজ আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব শশার উপকারিতা নিয়ে। আমরা সাধারণত সালাত হিসাবে শশা খেয়ে থাকি।
কিন্তু এই শশার কিন্তু অনেক ধরনের গুনাগুন রয়েছে। আজকে সে উপকারিতা বা গুণাগুণ নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করতে চলেছি………
পানির তৃষ্ণা মিটাতে শশার উপকারিতাঃ
শশার মধ্যে বেশিরভাগ অংশই জল দ্বারা পরিপূর্ণ। তাই আমাদের শরীরে পানির পূর্ণ তৃষ্ণা মিটাতে শশা কিন্তু খুব বেশি কার্যকরী। শশা একদিকে যেমন ক্ষুধা নিবারন করে, অন্যদিকে প্রাণে তৃষ্ণায় নিবারণ করে থাকে।
শশার মধ্যে পর্যাপ্ত ভিটামিন থাকে যা আমাদের জন্য খুব উপকারিঃ
শশার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে। দৈনিক যে পরিমাণ ভিটামিন আমাদের দরকার, প্রায় সব ভিটামিনের উপাদানের প্রায় সবকটি উপাদানই শশার মধ্যে রয়েছে। তাই আমাদের উচিত দৈনিক অন্তত পক্ষে একটি হলেও শশা খাদ্য তালিকায় রাখা, যাতে ভিটামিনের ঘাটতি আমাদের দেহে না হয়।
শশা চোখের নিচের কালো দাগ দূর করেঃ
চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে শশা কিন্তু খুব বেশি কার্যকরী। শশা পেস্ট করে অথবা শশা গোল গোল করে কেটে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চোখে লাগিয়ে নিতে পারেন এবং ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগ পর্যন্ত ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেললে এবং সেটা নিয়মিত করার অভ্যাস করলে চোখের নিচের কালো দাগ সহজে দূর হয়ে যায়।
শশা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কে নিয়ন্ত্রণে রাখেঃ
শশা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কে নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়াও রক্তে সুগার লেভেল কে নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে অনেকটা কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে শশার ভূমিকাঃ
শরীরের বাড়তি মেদ কমিয়ে শরীরকে সুন্দর এবং স্বাস্থ্যসম্মত করে গড়ে তুলতে শশার ভূমিকা কিন্তু অতুলনীয়। প্রতিদিন রাতে খাবারের পর অন্ততপক্ষে আস্ত একটি শশা যদি আমরা খেতে পারি, তাহলে সারাদিন যে ফ্যাট আমাদের শরীরে জমে যায় বিভিন্ন অনিয়মিত ও অনিয়ন্ত্রিত খাবার এর মধ্য দিয়ে তা কিন্তু আমাদের শরীর থেকে চলে যাবে। তাই নিজেকে ফ্যাট মুক্ত রাখতে খাদ্যতালিকায় অবশ্যই শশাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
কিডনিতে পাথর বা বিভিন্ন ধরনের বজ্র পদার্থ দূর করতে শশার উপকারিতাঃ
শশা কিডনিতে পাথর বা বিভিন্ন ধরনের বজ্র পদার্থ থেকে থাকলে তা কিন্তু শরীর থেকে বের হতে সাহায্য করে। কারণ শশায় যে জলীয় দ্রবণ থাকে প্রচুর পরিমাণে। যা কিডনির ছাঁকনি দিয়ে আসার সময় জমে থাকা ময়লা বা অন্যান্য বর্জ্যপদার্থ একসাথে নিয়ে আসে। এতে করে কিডনিতে পাথর সৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায় এবং পাথর হয়ে থাকলে তাও খুব সহজে প্রতিরোধ করা যায়।শশা মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলোকে সক্রিয় রাখেঃ
নিয়মিত শশা খাওয়ার মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলো খুব বেশি সক্রিয় থাকে এবং কর্মোদ্দীপনা ফিরে পায়। এর সাথে সাথে স্মৃতি শক্তি ধারণ ক্ষমতা কিন্তু অনেকটা বেড়ে যায়।
শশা ফেইসপ্যাক হিসাবে কাজ করেঃ
শশার ফেইসপ্যাক তৈরি করে মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার কাজে দারুণভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অথবা প্রাকৃতিক ফেসিয়াল হিসাবে ত্বকের ফেসিয়ালের একটি গুরুত্বপুর্ণ উপকরন হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে শশা।
তাহলে, বন্ধুরা আপনারা বুঝতে পারছেন শশা সালাদ হিসেবে যেমন সুস্বাদু। খাবারের রুচি বাড়ায়, তার সাথে সাথে এটি আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে কিন্তু দারুণ কার্যকর। পাশাপাশি শরীরের সৌন্দর্য ধরে রেখে আমাদের সৌন্দর্য প্রকাশে দারুণভাবে সহায়তাও করে থাকে।

Leave a Comment